*/
‘কলা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী’

‘কলা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী’

এস ভি ডেস্ক: মাহাথির বিন মোহাম্মদ বর্তমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি।  ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এ্যালোর সেটর-এ এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।  মাহাথির দশ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন।  তার বাবা মুহম্মদ বিন ইস্কান্দার মালয়ের একটি ইংলিশ স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন।

শৈশবে প্রথমে মালয় ও পরে শহরের একমাত্র ইংরেজি স্কুলে শিক্ষা লাভ করেন তিনি।  তাদের বাসায় একজন ধর্ম শিক্ষক ছিলেন যিনি প্রতিদিন বাড়িতে এসে পবিত্র কুরআন শরীফ, ইসলাম ধর্মের উপর বিশ্বাস এবং ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান শেখাতেন।

মাহাথিরের বয়স যখন ষোল।  তখন জাপান ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মালয়েশিয়া দখল করে।  তারা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বন্ধ করে দেয় এবং একটি জাপানি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।  তিনি প্রথম দিকে জাপানি স্কুলে যেতে চাননি।  সে সময়টিতে মাহাথির একটি স্থানীয় ছোট বাজারে কলা বিক্রি শুরু করেন।  কিন্তু পিতার চাপে তিনি পরে ঐ জাপানি স্কুলে ভর্তি হন। 

১৯৪৭ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তিনি ডাক্তার হবার সিদ্ধান্ত নেন এবং সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সেভেন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।  এসময় মাহাথির মালয় জাতির বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন।  সিঙ্গাপুরে সিথি হাসমার সাথে সাক্ষাত হয়।  সিথি হাসমা তখন দ্বিতীয় মালয় মহিলা হিসেবে সিঙ্গাপুরে বৃত্তি নিয়ে একই কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ছিলেন। পরবর্তীতে মাহাথির ও সিথি হাসমা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  তাদের মোট সাত জন সন্তান আছে, যার মধ্যে তিন জনকে তারা দত্তক নিয়েছিলেন। 

১৯৫৩ সালে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া ফিরে আসেন।  কিছুদিন সরকারী হাসপাতালে চাকরী করে পরে তা ছেড়ে দিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন করেন।  এটি ছিল এ এলাকায় কোনো মালয়ী পরিচালিত প্রথম ক্লিনিক।

একসময় সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা মাহাথির রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলেন।  ১৯৬৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে এমপি পদে নির্বাচিত হন তিনি।  এমপি হওয়ার পরে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন মালয়ীদের সমস্যার কথা বলতে, কিন্তু বারবার বাধাগ্রস্ত হন।  নিজ দলীয় নীতিও তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না।  ১৯৬৯ সালে মাহাথির প্রকাশ করেন তার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বই ‘The Malay Dilemma’।  বইটিতে তিনি মালয়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা সোজাসাপ্টা ভাষায় তুলে ধরেন।

মাহাথিরকে দলের ভুল পরিকল্পনা ও অদক্ষতা বিচলিত করে তোলে।  এক পর্যায়ে দলের প্রেসিডেন্ট টেংকু আব্দুর রহমানের কাছে তিনি কড়া ভাষায় একটি চিঠি লিখেন।  ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।  তিন বছর নিষিদ্ধ থাকার পর তিনি রাজনীতিতে পুনরায় ফিরে আসেন।

নির্বাচনে জয়ী হবার পর ১৯৭৪ সালে তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।  মাত্র দুই বছর পর মাহাথির ১৯৭৬ এ উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।  পরে ১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই ৫৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার ৪র্থ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করেন মাহাথির মুহম্মদ।  সেই থেকে টানা ২২ বছর মাহাথির মুহম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।  এর মধ্যে প্রতিবার তিনি ও তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন। মাহাথির মোহাম্মদ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় যাবৎ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা হচ্ছে তার প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ যা মালয়েশিয়াকে আধুনিক মালয়েশিয়ায় রুপান্তর করেছে।  বর্তমানে মালয়েশিয়ায় শিক্ষার হার ৯০%।  শিক্ষা ব্যায়ের ৯৫% সরকার বহন করছে।  পাশাপাশি, মালয়েশিয়ার বহু ধর্ম মত আর বিশ্বাসের মানুষকে তিনি গেঁথেছেন একই সুতায়।  সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Please Share This Post in Your Social Media


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/comsatkhira/public_html/wp-includes/functions.php on line 5580

Comments are closed.




© সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ Satkhiravision.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/comsatkhira/public_html/wp-includes/functions.php on line 5275