নড়াইল প্রতিনিধি: পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা থানার শৈলকুপা গ্রামের মোহাম্মদ বাবর আলীর গর্বিত সন্তান নড়াইল জেলার সদর উপজেলার সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন একজন ব্যতিক্রমধর্মী পুলিশ অফিসার।

প্রতিনিয়ত তিনি সহকর্মী ও সাধারণ জনগণের আদর্শগত ভিন্নতা মেনে নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। “পুলিশ জনগণের বন্ধু” তিনি এই বাক্যটির উৎকৃষ্ট নিদর্শন। তিনি অন্যতম একজন আদর্শ পুলিশ অফিসার যিনি তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আধুনিকতা, প্রযুক্তি ও সততা দিয়ে অপরাধ দমন করার চেষ্টা করেন। “পুলিশ জনতার, জনতা পুলিশের” এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন নড়াইল জেলার সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন।

সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন নড়াইল জেলার মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার। অধিকাংশ মানুষই তাকে গরিবের বন্ধু হিসাবে জানেন। তিনি তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও তার বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার দায়িত্বরত এলাকা মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন। তার চোখে ধনী-গরিব, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান।

তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাই নন পাশাপাশি অনেক সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি অবদান রেখেছেন।

জানা গেছে, সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন ১৯৯১ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। পুলিশে যোগদানের পর থেকেই তিনি একে একে অপরাধ দমনে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করতে থাকেন। তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে দায়িত্বে থাকাবস্থায় ১৯৯৮ সালে নড়াইলের একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন। তার সুনিপুণ দক্ষতার মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের ফলে দোষীরা খুব দ্রুতই আইনের আওতায় চলে আসে এবং তাদের শাস্তিও হয়।

অনুরূপভাবে ২০০১ সালে বাগেরহাটে কর্মরত থাকাবস্থায় ০৪/২০০১ নং ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী অফিসারও ছিলেন তিনি। এখানেও তিনি সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। পরবর্তীতে সকল সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞ আদালত দোষীদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন।

আর এ সকল দক্ষতার ফলেই তিনি দ্রুত পেয়েছেন প্রমোশন। তাঁর দায়িত্বরত এলাকার লোকজন বলেন, তিনি একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন পুলিশ অফিসার।

তিনি আমাদের বন্ধু তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমাদের এলাকা মাদক, চাদাঁবাজ, দখলবাজ, ইভটিজার, জঙ্গি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মুক্ত। তারা আরো বলেন, তাঁর মতো একজন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠী আওয়াজ তোলা পুলিশ অফিসার পেয়ে আমরা সত্যিই ধন্য।

সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার গণমানুষের বন্ধু, সরকার আমাদের পাঠিয়েছেন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, মানুষের সাথে মিলেমিশে তাদের সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে। আমরা মানুষের অতন্ত্র প্রহরী আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাদাঁবাজ, ইভটিজার মুক্ত করে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমার কাছে ধনী-গরিব, রিক্সাচালকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। একজন নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো পুলিশ। আর আমরা যদি তাদের আশ্রয় এবং তাদের সমস্যা নিরসন না করি তাহলে কে করবে। “পুলিশ জনতার এবং জনতা পুলিশের” আমি এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ কে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে এগিয়ে যাব।

তিনি আরো বলেন, আমরা অতন্ত্র প্রহরী হিসাবে রাত জেগে থাকি শুধু জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে বলে, আমাদের ঈদের ছুটিও নেই শুধু জনগণ যাতে তাদের এই ঈদকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং শান্তিতে কাটাতে পারে। কত পুলিশ অফিসার প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দেশকে জঙ্গি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে। আমি একটি কথা বলবো জনগণের উদ্দেশ্যে- আপনারা পুলিশ কে নিজের বন্ধু ভাবুন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ জনগণের শুধু বন্ধুই নয়, সেবকও। পুলিশ সব সময়ই জনগণের বন্ধু হিসেবে জনগণের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।

জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সেবা দেয়া সম্ভব নয়। সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীনের সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় সমগ্র নড়াইলবাসী গর্ববোধ করেন। সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীনের সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে বলেন, জীবন সংগ্রামকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানুষের।

যে দিন বাংলাদেশের প্রতিটা থানায় একজন করে সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দীনের মতো সৎ পুলিশ অফিসার থাকবেন সেদিনই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে নিরাপদ, সুন্দর এবং শান্তিময় দেশ। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম বলেন, জালাল উদ্দীনের মতো একজন সহকর্মী পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।

তার মতো দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্ব। প্রতিটি অপরাধ দমনে জালাল উদ্দীনের মতো পুলিশ অফিসারের সান্নিধ্য পেলে অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ অনেক এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।