নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রভাবশালী কর্তৃক লবনাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে মৎস্যঘের করায় কালিগঞ্জ উপজেলাধীন মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামে বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছে।  ইতিমধ্যে লবনাক্ত পানি তাদের বসবাসরত এলাকায় প্রবেশ করানোর কারণে চর্মরোগসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া দেখা দিয়েছে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।

দুধলী গ্রামের বদর মোল্লা, জান্নাতী, খাদিজা, আরিফা, শাকির হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুদলী গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী গাজীর ছেলে মুছা আলী গাজী, মৃত জোহর আলী গাজীর ছেলে আকবার হোসেন গাজী, মৃত ফারুক আহমেদের ছেলে শেখ বিপুল হোসেন ও শেখ হাবিব, শেখ আবু বকরের ছেলে শেখ মিনার হোসেন আমাদের বসত ঘরের চারিদিকে লবণাক্ত পানি উত্তোলন করে লবণাক্ত পানির মৎস্য ঘের তৈরী করেছে। ফলে আমাদের ভিটা বাড়ির আমগাছসহ অন্যান্য মূল্যবান বৃক্ষ দিনদিন মরে যাচ্ছে। আমাদের পুকুরের সুপেয় পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় গোসল ও রান্না বান্নার কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। এছাড়া লবণাক্ত পানি থাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করাও সম্ভব হচ্ছেনা।

তারা আরো বলেন, জনবসবাসরত এলাকার ৫০০ গজের মধ্যে লবণাক্ত পানির মৎস্য ঘের তৈরী করা যাবে না বলে আমরা জেনেছি। তবে তারা সরকারী সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লবনাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে মৎস্য ঘের তৈরী করেছে। আমাদের এলাকায় বসবাসরত সবাই দরিদ্র। ইতিমধ্যে লবণাক্ত পানি ও বাতাসের কারণে আধা পাকা ঘরবাড়ীর প্লাস্টার ও ইট খসিয়া পড়িতেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে আমাদের ঘরবাড়ি লবণাক্ত পানিতে নিমজ্জিত হয় এছাড়া লবনাক্ত পানিতে গোসল করে অনেকেই বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা ২০২০ সালের গত ১৬ নভেম্বর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছিলাম। প্রায় ২১ মাস পার হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার তাদের নোটিশ করলেও তারা কেউ হাজির হয়নি। বর্তমানে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এই লবনাক্ত পানির কবল হতে আমরা মুক্ত না হলে আমাদের এই বসতঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমরা সবিনয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করছি।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, একাধিকবার নোটিশ দিলেও তারা হাজির হয়নি। ফলে আমরা ওই অভিযৈাগের প্রেক্ষিতে কালিগঞ্জ থানায় মামলা করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.