জেলায় কমেছে আম চাষ! আবহাওয়া, বাজার ধর নিয়ে চিন্তিত আম চাষীরা – Satkhira Vision

April 15, 2021, 2:17 am

সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক! কলেজ শিক্ষার্থীর মামলায় যুবক গ্রেপ্তার শ্যামনগর: বাঘের আক্রমণে লাশ হয়ে ফিরলেন হাবিবুর! শ্যামনগর: প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাড়িতে হামলা! ঘর ও মন্দির ভাঙচুর সবাই সর্তক থাকলেই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব: নজরুল ইসলাম দেবহাটা: মানুষের সাথে মৌমাছির বসবাস শ্যামনগর: ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হল বাল্যবিবাহ শ্যামনগর: উপকূলের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা প্রদান কলারোয়া: সেবার দাফন টিমের সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা: বন্ধুকে জবাই করে নিজের বাবাকে জানায় খুনি সাগর! সাতক্ষীরা: গাঁজা ক্রয়ের ২০০ টাকার জন্য বন্ধুকে জবাই করে খুন করে সাগর
জেলায় কমেছে আম চাষ! আবহাওয়া, বাজার ধর নিয়ে চিন্তিত আম চাষীরা

জেলায় কমেছে আম চাষ! আবহাওয়া, বাজার ধর নিয়ে চিন্তিত আম চাষীরা

নাজমুল শাহাদাৎ জাকির:  ফলের রাজা আমের ভরা মৌসুম দোরগোড়ায়। আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুখরিত এখন সাতক্ষীরা। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সেই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি হচ্ছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। প্রকৃতির পালাবদলে শীতের শেষে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দোলা দিয়ে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলও সৌরভ ছড়াচ্ছে। ফাল্গুনি হাওয়ায় থোকায় থোকায় দুলছে আমের মুকুল। শীতের শেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুলগুচ্ছ যেনো উঁকি দিয়ে হাসছে। বাগানের সুনসান নীরবতা চিরে একটানা গান শোনাচ্ছে মৌমাছি। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম বাগান ও উঠানের চারিপাশ। শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। তবে গতবছর প্রথম থেকেই বৈরি আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছিলেন আম চাষীরা। এরপর করোনা পরিস্থতিতে যানবাহনের অভাবে পাইকারি ক্রেতা না থাকায় আমের বাজারজাতকরণ নিয়েও যথেষ্ট চিন্তিতও ছিলেন তারা। মে মাসের শেষে আম পাড়ার মৌসুম শুরু হবার আগে আমের বাজারজাতকরণে সরকারের গৃহীত নানান পদক্ষেপে আমচাষীরা যখন আবার আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন, সেই মুহূর্তে তাদের আম বাগানগুলো ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে পড়ে।

করোনার লকডাউনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ঝড়ে ঝরে পড়া আম বিক্রি করার কোন জায়গা না থাকায় আম ব্যবসায়ীদের শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তাছাড়াও গত মৌসুমে জেলার আম বাগানগুলোর অধিকাংশ বাগানে আশানুরূপ আমের মুকুলের দেখা মেলেনি। তারউপর করোনার ভাইরাসের জন্য দেশব্যাপী লকডাউন চলার কারনে জেলাসহ দেশের বাইরে আম রপ্তানি করতে না পেরে চিন্তিত ছিলো জেলার আম চাষীরা।  আর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে জেলার ২হাজার ২৭ হেক্টর জমির ১৬ হাজার ২৯৬ টন আম নষ্ট হয়ে যায় । আর্থিকভাবে সেসময় আমচাষীরা ৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবছর জেলার আম বাগানগুলোতে দ্বিগুণ মুকুল এসেছে। আর অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আমের মুকুল পরিণত হবে এক পরিপূর্ণ দানায়। আমের এই মুকুলে  আমচাষীদের সোনালি স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। সেই সোনালি স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই গতবছরের আর্থিক ক্ষতিকে ভূলে যেয়ে নতুন করে আম বাগান পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত জেলার ১৩’হাজার ১০০জন আমচাষী। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে রয়েছে আরো কয়েক হাজার আমচাষি। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর ৫হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে। এবার জেলায় ৪হাজার ১১০হেক্টর জমিতে  ৪০হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। গড় ৬০টাকা কেজিধরে ৪০হাজার মেট্রিকটন আমের বাজার মূল্য ২৪০ কোটি টাকা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মিজানুর রহমান, অজিদ দাস, তালা উপজেলার সফল আম চাষী আসাদুজ্জামান সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ পর্যায়ের আম চাষীরা জানান, তাদের আম বাগান গুলোতে মুকুল শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো। প্রায় জেলার ৯৫ শতাংশ আম গাছে মুকুলে শোভা পাচ্ছে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ফজলি, আশ্বিনা, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আমের মুকুল।<span;> কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছেন জানিয়ে আম চাষীরা জানান,<span;> গত মৌসুমে করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারনে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও চলতি মৌসুমে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের উপর দোল খাচ্ছে তাদের ভাগ্য।

তবে গতবছরের চেয়ে এবছর ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হওয়ার কারণ সমন্ধে ঘূর্ণিঝড় আম্পানকে দোষারোপ করছে সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ। এবিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা  শৌভ্য সাচি বলেন, গতবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত আম বাগান গুলোর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো।  একারনে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান,  এবার সাতক্ষীরা জেলার ৪হাজার ১১০হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হচ্ছে। যা থেকে ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। ইতোমধ্যেই আমের মুকুল আসছে, এইসময়ে সাধারণত হুপার পোকার আক্রমণ করে। যার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বিচিং পদ্ধতিতে সেচ না দেওয়ার কারণে  মুকুল শুকিয়ে ঝড়ে পড়ে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে ও ফলন ভালো পেতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমচাষিদের সবধরনের পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রদান করা হচ্ছে  বলে জানান তিনি।


 

 




All rights reserved © Satkhira Vision

Design & Developed BY Asha IT