পাটকেলঘাটা: বিয়ের তিনদিনের মাথায় নববধূকে অপহরণ করলেন এনজিও’র কর্মকর্তা! – Satkhira Vision

September 24, 2020, 8:48 am

সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা: বড় বাজার সংলগ্ন নেট টেলিকমে দূর্ধর্ষ চুরি কলারোয়া: কেরালকাতা ইউপির উপনির্বাচনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা সাতক্ষীরা: মীর্জা সালাউদ্দীনের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান, ডোপ টেস্টে ১৫ জন পজিটিভ বাহাউদ্দিন নাছিমের সুস্থতা কামনায় বিবিসি ফান্ডেশনের দোয়া অনুষ্ঠান ফলোআপ: সাতক্ষীরা ভিশন সংবাদ প্রকাশের জের, দীনমুজুরের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে এলো বিবিসি ফাউন্ডেশন কলারোয়া: উপজেলা অফিসার্স ওয়েল ফেয়ার ক্লাবে ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াসের বিদায় সংবর্ধনা সাতক্ষীরা: ৮৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ শাখরার মনিরুল ও রিয়াজুল গ্রেফতার কলারোয়া: বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে বাঁচতে পারে ক্যান্সার আক্রান্ত তন্নি সাতক্ষীরা: পায়ের তিনটি আঙুল কেঁটে বাদ দিলেন হাতুড়ে ডাক্তার! পঙ্গু হলেন দীনমজুর দেবহাটা: গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় পা হারাতে বসেছেন দীনমুজুর
পাটকেলঘাটা: বিয়ের তিনদিনের মাথায় নববধূকে অপহরণ করলেন এনজিও’র কর্মকর্তা!

পাটকেলঘাটা: বিয়ের তিনদিনের মাথায় নববধূকে অপহরণ করলেন এনজিও’র কর্মকর্তা!

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): বিয়ের তিন দিনের মাথায় জেলার পাটকেলঘাটায় পরিত্রাণ এনজিও’র প্রোগ্রাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋতুপর্ণা দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূকে অপহরনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৯’ই আগস্ট সকালে জেলার পাটকেলঘাটা থানার পুটিয়াখালি গ্রামে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এঘটনার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হতে চললেও গৃহবধূ ঋতুপর্ণাকে এখনও উদ্ধার করতে পারিনি পুলিশ। দীর্ঘসময়েও ঋতুপর্ণা দাসের কোন খোজঁ না পেয়ে সীমাহীন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ওই গৃহবধূর পরিবার ও স্বজনরা। এদিকে মামলার আসামীদের হুমকীতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদেরকে। 

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরধরে গত ৫ই আগস্ট জেলার তালা হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের লক্ষণ দাসের ছেলে লিটন দাস ও পাশ্ববর্তী যশোর জেলার কেশবপুর থানার বড়েঙ্গা এলাকার ভদ্রদাস এর মেয়ে ঋতুপর্ণা দাস বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়েতে লিটনের পরিবারের সদস্য ছাড়াও ঋতুপর্ণা পরিবার থেকে তার নিকট আত্বীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তবে ঋতুপর্ণার সহদর ভাই এই বিয়ের বিরোধিতা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরে লিটন তার স্ত্রী ঋতুপর্ণা দাসকে নিয়ে গত ৮ই আগস্ট তার ভগ্নীপতি পাশ্ববর্তী পাটকেলঘাটা থানার অন্তগত পুটিয়াখালি গ্রামের গোপাল দাসের বাড়িতে বেড়াতে যায়।

তবে ৯ই আগস্ট সকালে লিটন দাস প্রয়োজনীয় কাজে বাজারে যাওয়ায় সেই সুযোগে পরিত্রাণ এনজিও’র  প্রোগ্রাম অফিসার উজ্জ্বল দাসের নেতৃত্বে বড়েঙ্গা গ্রামের ভাদ্র দাসের ছেলে ননী গোপাল, সজ্ঞয় দাস, সংকর দাস, তালার গোনালী এলাকার শৈলেন দাসের ছেলে শশীবর দাস, পুটিয়াখালি এলাকার মৃত সুরেন্দ্র দাসের ছেলে প্রবির দাস, উদয় দাস, সুজিত দাস গৃহবধূ ঋতুপর্ণাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ঋতুপর্ণা স্বামীকে রেখে তাদের সাথে যেতে রাজি না হওয়ায় পরিত্রাণ এনজিও’র প্রোগ্রাম কর্মকর্তা উজ্জ্বল সরকারের সন্ত্রাসীবাহিনীরা গৃহবধূ ঋতুপর্ণাকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে ঋতুপর্ণা অচেতন হয়ে পড়লে তারা ঋতুপর্ণাকে নিয়ে চলে যায় পাশাপাশি লিটনের ভগ্নিপতীর বাসা থেকে স্বর্ণের দুল, রুলি, চেইনসহ মূল্যবান জীনিসপত্র নিয়ে চলে যায় তারা। এসময় স্থানীয়রা তাদের এসব কর্মকান্ডের বাধাঁ দিতে গেলে স্থানীয়দেরও প্রাণনাশের হুমকী দেওয়া হয়। এঘটনায় লিটন সরকার বাদী হয়ে গৃহবধূর নিজ এলাকা যশোরের কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও জেলার পাটকেলঘাটা থানাতে একটি সাধারণ-ডায়েরী (ডায়েরী নং-৩৮০) দায়ের করেন এবং সর্বশেষ গত ১৫ই আগস্ট সাতক্ষীরা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১০০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন লিটন দাস।

মামলা দায়েরের পর থেকে পরিত্রাণ এনজিও’র প্রোগ্নাম কর্মকর্তা উজ্জ্বল সরকারসহ তার বাহিনী লিটন দাসকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে বলে জানা যায়। এবিষয়ে লিটন দাস বলেন, জোরপূর্বক ভাবে আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে চলে গেছে পরিত্রাণ এনজিও’র প্রোগ্রাম কর্মকর্তা উজ্বল সরকারসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী। একারনে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিতভাবে অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছি। তবে অভিযোগ ও মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল সরকার ও তার সন্ত্রাসীবাহিনী আমাকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি যদি মামলা তুলে না নেয় তাহলে তারা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলাসহ আমিসহ আমার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এসময় তিনি নিজের বিবাহিতা স্ত্রী ফেরত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিত্রাণ এনজিও’র প্রোগ্রাম কর্মকর্তা উজ্জ্বল দাস বলেন, আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। তারপরেও আমি লিটনরে ধৈর্য ধরতে বলেছি যে আমি তার স্ত্রীকে ফেরত পেতে সহায়তা করবো। তবে তার উপরে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিত্রাণ এনজিও’র পরিচালক মিলন দাস বলেন, আমাদের এনজিও এই ধরনের নেক্কার জনক কাজকে কখনো সমর্থন করেনা। তবে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার যদি পরিত্রাণ এনজিও’র নাম ও পদবী ব্যবহার করে এঘটনাটি ঘটায় এবং তার এসমস্ত কর্মকান্ড ঘটানোর বিষয়ে কেউ যদি লিখিত ভাবে অভিযোগ করে তাহলে উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ বলেন,  বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন আছে। অপরদিকে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অপরণের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের সম্পর্কিত বিষয়ে কিছুই জানেননা তিনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোজঁ নিয়ে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।




 

 




All rights reserved © Satkhira Vision

Design & Developed BY Asha IT