শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ১নং ভূরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফারুক হোসাইন ও ১২ নাম্বার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুদুল আলম এর বিরুদ্ধে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারী ভোগী মহিলা নির্বাচনের তালিকায় ইচ্ছে মতন, বেআইনি ভাবে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করে চাউল বিতরণ করেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ হয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

১নং ভূরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপির ১,২,৩ নং ওয়ার্ড মহিলা সদস্য মোছাঃ রহিমা আক্তার, ২নং ওয়ার্ড সদস্য জাকির হোসেন, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুস সবুর কাগজী ইউপি সদস্য মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, ডাঃ মোঃ মুজিবুল হক রা লিখিত ভাবে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সভাপতি উপজেলা ভিজিডি কমিটি বরাবর ২৭ মার্চ লিখিত অভিযোগ করে।

আব্দুর সবুর কাগজী ও রহিমা আক্তার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আবুল হোসেন পরিষদের প্যাডে ওয়ার্ড পর্যায়ের জনসংখ্যার রেশিও অনুযায়ী কোন ওয়ার্ড কয়জন ভিজিডি কর্মসূচি কার্ড ধারী হবেন সংখ্যা নির্ধারণ করলেও তা না মেনে চেয়ারম্যানের নিজের ২নং ওয়ার্ড ৩৮ জনের জায়গায় ৫৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যাদের ভিতরে অধিকাংশ দলীয়করণের মাধ্যমে বিল্ডিং বাড়ি এবং১০/১২ বিঘার অধিক জমির মালিক পরিবারের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

দুই নম্বর ওয়ার্ডের শরিফা খাতুন স্বামী আব্দুল আজিজ, রাফিজা খাতুন স্বামী আনসার, জেসমিন আরা স্বামী আব্দুর রশিদ, রোজিনা স্বামী মনিরুল, নুরনাহার স্বামী জাহিদ প্রত্যেকের বাড়িতে পাকা বিল্ডিং ও দশ বিঘার উপরে ধানের জমি আছে বলে অভিযোগ করেন।

তারা আরো বলেন, ইউপি ভিজিডি মহিলা বাছাই কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাঃ ফারুক হোসাইন সদস্য সচিব মোঃ আবুল হোসেন ইচ্ছামত কোন প্রকার মিটিং ছাড়াই ২৩০ জনের ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারী ভোগী মহিলা নির্বাচন করে চুড়ান্ত তালিকা জমা দিয়েছেন। যে তালিকায় পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের দীনেশ এর স্ত্রী সুরভী কে উঠ উঠে পাঁচবার, জহুর আলীর স্ত্রী সালমা খাতুন এর আছে ৮বিঘা জমি, মর্জিনা খাতুন স্বামী শাহাজান মল্লিক দুই তলা বাড়ির সহ সাত বিঘা জমি, সালমা খাতুন মর্জিনা খাতুন মজিদা খাতুন আসমা খাতুন মমতাজ বেগম তুলসী রানী প্রত্যেকেরই স্বামীর নাম অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মুহাঃ ফারুক হোসাইন এবং সচিব মোঃ আবুল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই অভিযোগ তুলে উপজেলার 12 নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের 9 নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজিজুল ইসলাম চেয়ারম্যান মাকসুদুল আলম এর বিরুদ্ধে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৩৩৩,৩৪৪,৩০৮,৩০৯,৩৫৭,৩৬৪ নাম্বার ক্রমিকের উপকারভোগীদের যাচাই বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় ১১ এপ্রিল অভিযোগ করেন গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সূরা গ্রামের আফসার রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক মতামত সহ প্রতিবেদন এর নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান চেয়ারম্যান যা তালিকা দিয়েছেন অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট করে তালিকা অনিয়ম হয়েছে এবং উপকারভোগী দের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।