Spread the love

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি থানার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বারীক গাজীর মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। নিজেকে একজন আদর্শ ও চরিত্রবান লোক দেখানোর চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন তিনি। কিন্তু কথায় আছে “কয়লা ধুলে কি ময়লা যায়?” প্রথমে ছিলেন চাল ভানানো মিলের ম্যানেজার, তারপর হলেন জমি জবর দখলকারী, পরবর্তীতে হলেন মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক ব্যবসায়ী মহলসহ সর্বত্রে মাদক সম্রাট বারেক গাজী নামে পরিচিত লাভ করেন তিনি।

খরিয়াটি গ্রামের ফজলে গাজীর ছেলে বারীক দীর্ঘদিন মাদকের ব্যবসার করায় আশাশুনি থানায় আর কোনদিন মাদক ব্যবসা করবে না বলে অঙ্গিকার করার পরেও গত বছরের ৫ নভেম্বর ৮০পিছ ইয়াবাসহ আশাশুনি থানা পুলিশের কাছে হাতে নাতে গ্রেফতার হন বারীক গাজী। তার নামে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়, মামলা নং ১(১১)১৮। বর্তমানে সে জেল থেকে ফিরে এলাকায় আবারও রেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার স্ব-চরিত্রের ঘটনা তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকৃত সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন বারীক গাজী।

তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত এক সংবাদের বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম গাজী জানান, তার পিতার নামীয় খরিয়াটি মৌজায় মোট ৪৬ শতক ভিটে বাড়ির জমিটি ঘেরা বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছিলো। ওই সম্পত্তির মধ্যে ৫শতক জমির উপর একটি ধান ভাঙানো মিল ছিলো যা তৎকালিন কর্মচারী বারীক গাজীর উপর দেখা শোনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। কিছু দিন পরে মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সম্পত্তি দেখা শুনা করার জন্য বারীক গাজী সেখানে থাকতে শুরু করে। সেই সুযোগে বারীক গাজী উক্ত স্থানে গোপনে মাদকের আস্থানা গোড়ে তোলেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী ও সম্পত্তির মালিক সালাম গাজী তাকে ওই স্থান ছেড়ে দেওয়ার তাগিদ দিলেও সে তাদের কথায় কর্ণপাত না করে খরিয়াটি গ্রামের সালাম গাজীর ভিটাবাড়ীতে বহাল তবিয়তে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো।



গত ইং ৮এপ্রিল-১৯ তারিখে কয়েকটি পত্রিকায় বারীক গাজী সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, তার ৫২শতক জমি আব্দুস সালাম গাজী জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে কিনা উক্ত সম্পত্তি মোট ৪৬শতক এবং কাগজপত্রনুযায়ী তার বৈধ মালিকই আব্দুস সালাম গাজী। এব্যাপারে বিজ্ঞ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হলে সরেজমিন তদন্ত রিপোর্টসহ বিজ্ঞ আদালতে চলমান মামলার রায় জমির প্রকৃত মালিক সালাম গাজীই পান।

এব্যাপারে দরগাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতের শুনানিতেও জমির প্রকৃত মালিক সালাম গাজীই রায় পান। আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করে নালিসি সম্পত্তি অবৈধ্য দখল করে রাখা ‘মাদক ব্যবসায়ী বারীক গাজীর খুটির জোর কোথায়’ এমনটাই প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের?

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মেয়াজ আলী জানান, এই বিরোধ নিয়ে পরিষদে বসাবসি হলেও বারেক গাজী এ জমি সম্পর্কিত কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। কিছু জমির এস এ রেকর্ডে সমস্যা থাকলেও আব্দুস সালাম গাজী সেটা সিভিলে সংশোধন করে ফেলেছে। কাগজপত্র এবং কোর্টের রায় অনুযায়ি এ সম্পত্তি আব্দুস সালাম গাজীর।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে দরগাপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জমীর উদ্দীন গাজী এবং জেলা তাঁতীলীগ নেতা আছাফুর রহমানের বক্তব্য তুলে ধরলেও মুঠোফেনে তারা এ প্রতিবেদককে জানান, বারীক গাজীর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমাদের দুজনের কেউই উপস্থিত ছিলাম না। আমরা বহুবার উক্ত সম্পত্তির কাগজপত্র এবং কোটের রায় মোতাবেক পর্যালোচনা করে দেখেছি নালিশি সম্পত্তির বৈধ মালিক ব্যাংকার আব্দুস সালাম গাজী। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তাদের অনুমতি ছাড়া বক্তব্য প্রদান করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান জমীর উদ্দীন গাজী ও জেলা তাঁতীলীগ নেতা আছাফুর রহমান।

এমতাবস্থায় ঘনবসতী গ্রামের মধ্য থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি দখরকারী বারীক গাজীকে উক্ত গ্রাম থেকে অপসারণে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে জোর দাবী জানিয়ে এলাকার সচেতন মহল।