বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের তলুইগাছা সীমান্ত দিয়ে বিজিবির চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভারত হতে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে ভারতীয় গরুর মাংস। কোনদিন ভোরে আবার কোন দিন দুপুরে উত্তর তলুইগাছা গ্রামের লেয়াকাতের বড় স্ত্রী আকলিমা খাতুন ও মিজানের স্ত্রী জোছনা খাতুন ভারতীয় জবাই করা গরুর মাংস নিয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, উত্তর তলুইগাছার গরুর খাটালের বিপরিতে দক্ষিণ পশ্চিম কোনায় মিজানের একটি পটল ক্ষেত আছে। ওই ক্ষেতের সন্নিকটে ভারতীয় ভূখন্ডে একটা কলাবাগান আছে। ওই কলাবাগানের ভেতরে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ভারতের আমুদিয়ার চোরাকারবারি জিয়াউর রহমান ও গুড়গুড়ির সাথে সকল লেনদেন সম্পন্ন করে আকলিমা ও জোছনা খাতুন। জিয়াউর ও গুড়গুড়ি গরুর মাংস ওই কলাবাগানের ভেতরে নিয়ে আসে আর ওখান থেকে আকলিমা ও জোছনা ভারতীয় মাংস বিজিবির চোখকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ভারতীয় গরুর মাংস বাংলাদেশে নিয়ে এসে বাড়িতে রাখে আকলিমা ও জোছনা। আর সেই মাংস কাশেমপুর, ঘোনা, কুশখালি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গা হতে মাংস ব্যবসায়িরা আকলিমা ও জোছনার বাড়ি হতে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দেশী গরুর মাংস বলে বিক্রি করছে। আকলিমা ও জোছনা এখন ভারতীয় গরুর মাংসের ডিলারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ভারতের আমুদিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফুলির ছেলে মফিজুলের সাথে আকলিমাও জোছনার আছে সুসম্পর্ক। আকলিমা ও জোছনা মফিজুলের কাছ থেকে মাদক নিয়ে ওই গরুর মাংসের ভেতরে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, আকলিমার বাড়ি হতে কেউ ওই গরুর মাংস নিয়ে আসতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে আকলিমা তাদের বলে ‘আমার স্বামী বিজিবির সোর্স। আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না। যে কথা বলবে তাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না। আপনারা নিশ্চিন্তে মাংস নিয়ে যান।’

তলুই গাছা বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ হাবিলদার আব্দুল হামিদ বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা। সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি সদা তৎপর রয়েছে। বিজির চোখকে ফাঁকি দিয়ে যদি কেউ কোন প্রকার চোরাচালানের সাথে যুক্ত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।