ফিরোজ জোয়ার্দ্দার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গত কয়েকদিনে পশ্চিমা লঘু চাপের কারনে ঝড়ো হাওয়া ও টানা ৪ দিনের বৃষ্টিপাতে সারা দেশের ন্যায় উপজেলাতেও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষ করে মৌসুমী ফসল আমের ছোট ছোট মুকুল, লিচুসহ বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, শিলা বৃষ্টির কারণে মৌসুমী ফল আম ও লিচুর মুকুল গুলো ঝরে পড়েছে মাটিতে। যার কারনে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার অনেক মাঠে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ও মাছ চাষের জন্য অপরিকল্পিত ভাবে ঘের তৈরি করে মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করার কারণে টানা ৪ দিনের বৃষ্টিপাতে অনেক বিলের জমি বোরো ধানসহ পানির নীচে ডুবে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা,গদখালী, কাকডাঙ্গা,কেড়াগাছি, বাকসা, বাগাডাঙ্গা, সরসকাটি ওফাপুর ও আইচপাড়া মাঠের শতশত বিঘা বোরো ধান পানির নীচে ডুবে আছে। নিয়ম নীতি না মেনে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে মাছের ঘের করে পানি নিস্কাসন ছাড়ায় ধানের চারা গুলো নিচু জমিতে তলিয়ে যায়। এতে করে গরীব কৃষকরা হতাশায় পড়ে গেছে।

গদখালী,তুলসীডাঙ্গা ও কাকডাঙ্গা গ্রামের কৃষকদের বরাত দিয়ে সরদার আনারুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে তাদের মাঠের পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে শতশত বিঘা জমিতে কৃষকরা আমন ধানের চাষ করতে পারেন না।
এছাড়া তারা আরো বলেন, এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা অপরিকল্পিত মাছ চাষীরা তারা ঘেরের জমি নিয়ে মাত্র ৪ দিনের বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বোরো ধানের জমি। কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে জমি চাষ করা থেকে শুরু করে সার কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচ করে বোরো ধান লাগানোর ৮/১০ দিন পরেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারনে কৃষকরা এই সীমাহীন ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।

এবিষয়ে কেড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে চাষ করা জমিতে অবৈধভাবে ঘের করে মাছ চাষ করায় বিলের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা হচ্ছে। সরকার বিনামুলে কৃষকদের সার দিয়ে ধান চাষ করাচ্ছে। কিন্তু এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা এ জমি দখল করে মাছ চাষ করে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছে। তাই অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করার ব্যাপারে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সরকার সহ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।