নিজস্ব প্রতিনিধি: সাংবাদিকতাকে আমি সব সময় ইতিবাচক হিসাবে দেখি। সাংবাদিকতা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নও রয়েছে। এমনকি গোয়েবলসীয় পদ্ধতিতে সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টাও হয়ে থাকে। তারপরও সাংবাদিকদের রিপোর্টে সমাজের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে এটাই আমাদের আশা। কিন্তু তা সব সময় প্রতিফলিত হয় কিনা এমন প্রশ্ন রাখলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা এই পরিবর্তনে কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক।

এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের ‘পাইন অ্যাপেল আইস’ (আনারসের বহু চক্ষু) হিসাবে আখ্যায়িত করে আরও বলেন ‘ আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, প্রয়োজনে আমাকে সংশোধনের সুযোগ দেবেন’।

২০ তম জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদানের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি মূলক মত বিনিময় সভায় এ কথা বলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। বুধবার দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মত বিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শাহ আবদুল সাদী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি ও সংবাদপত্র পরিষদের আহবায়ক জিএম নুর ইসলাম। সেময় জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হক ছাড়াও সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নয়, কারও কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য নয়, বরং সাংবাদিকরা সঠিক রিপোর্ট লিখে কাজের গতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। যেখানে ভুল সেখানে প্রাথমিকভাবে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা সবাই উন্নয়নের পক্ষে একযোগে কাজ করবো মন্তব্য করে তিনি বলেন মাদকের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে আমরা কর্মসূচি দেব।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আগামি ২০৪১ সালে বাংলাদেশ এক উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সামনেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা, তাছাড়া সংসদ নির্বাচনও নিকটে এই মন্তব্য করে মোস্তফা কামাল বলেন এই দুটি বিষয়কে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আইন শৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের মাঝে শান্তি রক্ষায় পুলিশ বাহিনী তৎপর রয়েছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছি জানিয়ে তিনি আরও বলেন গ্রাম উন্নয়নে গ্রামীণ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। তিনি তার দায়িত্ব পালনে সকল সংবাদকর্মীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সাতক্ষীরা একটি অপার সম্ভাবনার জেলা উল্লেখ করে তিনি বলেন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ক্রীড়াঙ্গনের সৌম্য , মুস্তাফিজ , সাবিনা , সাতক্ষীরার সংস্কৃতি, এখানকার আম, চিংড়ি , সাদা মাছ কৃষি এসবই মিলিতভাবে সাতক্ষীরাকে দেশে ও বিদেশে পরিচিত করেছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন এই জেলাকে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। এ জন্য জনগনের সাথে সেতুবন্ধন চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে সেবা দিতে চাই।

আলোচনায় উঠে আসে সাতক্ষীরার নানাবিধ সমস্যা ও তা সমাধানের পথ। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন সমাজে গুনি মানুষ আছে। মানুষের অনেক গুনাবলী আছে। তাদের গুন নিয়ে আলোচনা করা আরেকটি ভালো গুন উল্লেখ করে তিনি বলেন কারও অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করা ঠিক নয়। ধর্মীয় মতেও তা নিষিদ্ধ বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই , এটাই একটি সুসংবাদ । এটাকে ধরে রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।