এসভি ডেস্ক: নড়াইলের লোহাগড়ায় বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিতে নারাজ থাকায় ছেলেরা পাঁচ সন্তানের জননী ফুজলি বেগম (৯০) কে বুধবার গভীর রাতে ভ্যানে করে মাকে নিয়ে  রাস্তার পাশে বাঁশ বাগানের মধ্যে ফেলে দেয়। 

এ ঘটনা ঘটে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের কুচিয়াবাড়ি গ্রামে।  জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধার স্বামী ছামাদ শেখ মারা যান।  অনেক কষ্টের মধ্যেই ৩ ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করেছেন তিনি।  ছেলে মেয়েরা বিয়ে করে সকলে আলাদা বসবাস করছেন। 

কিন্তু বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব কোন সন্তান নিতে না চাওয়ায় তারা রাতের আধারে বাড়ির অদুরে বাঁশ বাগানে ফেলে দেয় ।  বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বড় ছেলে ডাকু শেখের বাড়িতে রেখে এসেছেন।  ছেলের কাঁচা ঘরের বারান্দায় প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। 

জীবন সায়াহ্নে বার্ধক্য জনিত নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে আছেন বৃদ্ধা।  তাই  সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে দাড়িয়েছেন তিনি।  তার তিন ছেলে আলাদা আলাদা সংসার থাকলেও  কোন ছেলে বা পুত্রবধুরা কেউই মায়ের খাবার ও সেবা করতে নারাজ।  সে কারণে মৃত্যু কামনায় তারা রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে বাঁশ বাগানের মধ্যে ফেলে আসে বৃদ্ধা মাকে। 

পরে সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়।  পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে জোর করে বৃদ্ধার বড় ছেলে ডাকুর দায়িত্বে রেখে আসেন।  শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই বৃদ্ধা বারান্দায় প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। 

এ ঘটনা শুনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু ওই বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধার খোঁজ খবর নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে নগদ ৫হাজার টাকা দেন ।  তিনি প্রতিমাসে তার চিকিৎসা বাবদ ও ভরনপোষণের  জন্য তিন হাজার টাকা  করে  প্রদান করবেন। 

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ্বাস শুক্রবার জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফুজলি বেগমকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার বড় ছেলে ডাকু শেখ কে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।  এ বিষয়ে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।